সমাজে কার অবদান বেশি ডিপেন্ডেন্ট মানুষ নাকি ইন্ডিপেন্ডেন্ট মানুষ! আমাদের মাঝে দুই ধরনের মানুষ আছে। যেমন কিছু মানুষ আছে যারা ডিপেন্ডেন্ট আর কিছু মানুষ আছে যারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তার নিজের কাজ নিজে করে। তার যা প্রয়োজন, প্রয়োজন অনুসারে নিজেই মিটানোর চেষ্টা করে। অন্যের কাছে কোন প্রয়োজন থাকলে সেটা অন্যকে বলে মেটানোর চেষ্টা করে। অপরদিকে দুই মাসের একটা বাচ্চা সে কিন্তু নিজের কাজ নিজে করতে পারে না। অন্যের উপর নির্ভরশীল যখন তার ক্ষুধা লাগে তখন সে কান্নাকাটি করে। যখন তার শরীর খারাপ করে তখনো সে কান্নাকাটি করে। পেটে ব্যথা হলে কান্না করে, ঘুম পেলে কান্না করে, ক্ষুধা পেলে কান্না করে, কান্নায় হলো তার সকল কিছু বোঝানোর একমাত্র ভাষা। কেননা তখন সে কথা বলতে পারে না। আর তার এই কান্না শুনে তার অভিভাবক তার ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার দেয়। শরীর খারাপ হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। ঘুমানোর সময় হলে তাকে ঘুমানোর সুযোগ করে দেয়। এক কথায় সে সম্পূর্ণরূপে পরনির্ভরশীল অর্থাৎ তার বাবা-মা অথবা তার দেখাশোনার জন্য যারা বরাদ্দ থাকে তাদের উপর এই দুই মাসের বাচ্চা সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছে। যারা বয়সে পরিপক্ক (পরিপূর্ণ মানুষ) হওয়া শর্তেও তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি ডিপেন্ডেন্ট। কিছু হলেই চিৎকার চেঁচামেচি করে, কান্নাকাটি করে, অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয়। এটা তোমার কাজ, এটা তুমি করোনি, কেন করনি! কি জন্য করনি! আজ তোমার কারনে এমন হলো! তুমি এমনটা না করলেও পারতে! ইত্যাদি ইত্যাদি…… তারা এই চিৎকার-চেঁচামেচির মাধ্যমে অন্যের কাছ থেকে সমাধান আশা করে। অন্য কেউ তার সমস্যার সমাধান করে দেবে এমনটা ভেবে সে বসে থাকে। আর যখন এইভাবে করে সমস্যাগুলো সমাধান হয় না। একের পর এক তার ওপর এই সমস্যাগুলো বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এসে তার সমস্যাগুলো এত পরিমাণে বেড়ে যায় যে ক্রমাগত সে নেগেটিভ মানুষে পরিণত হয়। শুরুতেই আমি ডিপেন্ডেন্ট এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলে মানুষের মধ্যে দুটি পার্থক্য তুলে ধরেছি। আসলে এই ডিপেন্ডেন্ট এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট দুই ধরনের হতে পারে। একটা মানসিকভাবে অন্যটা শারীরিকভাবে। শারীরিকভাবে ডিপেন্ডেন্ট বলতে বোঝানো হয়েছে যখন আপনার বয়স অনেক বেশি হয়ে যাবে অথবা শারীরিকভাবে আপনি অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়বেন। তখন আপনার কাজে অন্যকে বা অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু মানসিকভাবে ডিপেন্ডেন্ট এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট এই দুটি বিষয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। একজন মানসিকভাবে স্বনির্ভরশীল মানুষ তার নিজের কাজ নিজে করে। অন্যের উপর নির্ভর করে থাকে না। এ সকল মানুষ সব সময় পজেটিভ মানসিকতার অধিকারী। অপরদিকে মানসিকভাবে পরনির্ভরশীল মানুষগুলো সব সময় অন্যের উপর দোষ চাপাতে অভ্যস্ত। তারা কখনো কোন কাজ সম্পূর্ণরূপে করতে পারে না। শুধু অন্যের উপর আশা করে থাকে। এটা অমুকের কাজ সে করবে। সে যদি না করে না করবে। এমন ভাবে ভাবতে ভাবতে যখন দেখে এই কাজগুলো আর হয়না। তখন সে বিভিন্ন প্রকার নেগেটিভ মানসিকতার শিকার হয়। একপর্যায়ে বলতে থাকে এটা সিস্টেমের সমস্যা। এটা কখনোই সমাধান হবে না। অপরদিকে পজিটিভ মনের মানুষ যারা। তারা নিজের কাজ নিজে করে এবং বিভিন্ন প্রকার কাজ থেকে তারা নিজেদের কাজ খুঁজে বের করে। এ ধরনের মানুষ সমাজের জন্য সব সময় মঙ্গল বয়ে আনে। অপরদিকে পরনির্ভরশীল মানুষগুলো সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ। এরা না পারে নিজেদের উন্নতি করতে। না পারে সমাজের উন্নতি করতে। পরিশেষে আমি এটাই বলতে চাই আমাদের নিজেদের কাজ নিজেদের করা উচিত। কোন কাজ অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে মুক্তি লাভ করার চিন্তা না করাই মঙ্গল কর। সুতরাং আমরা সবসময় চেষ্টা করব পরনির্ভরশীল না হয়ে স্বনির্ভরশীল হওয়ার জন্য। এতে করে নিজেদেরও যেমন উন্নয়ন হবে সমাজের উন্নয়ন হবে এবং নিজেকে একজন পজটিভ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ হবে। তাই আসুন আমরা আমাদের সমাজকে আরও উন্নত করতে আগে নিজেকে উন্নত করি। আর নিজে যদি উন্নত হতে পারি সমাজ ও উন্নত হবে। আমার লেখাতে কোথাও কোন ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আসলে আমি প্রফেশনাল লেখক না। আমি শুধু চেষ্টা করেছি পজিটিভ এবং নেগেটিভ মনের মানুষের কিছু বিষয় তুলে ধরার জন্য। আশা করি যদি আপনি এই লেখা থেকে ন্যূনতম কোন শিক্ষা লাভ করে থাকেন। তাহলে লেখাটি আপনার বন্ধুবান্ধবের সাথে শেয়ার করে তাদেরকেও কিছুটা শিক্ষা নেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবেন। ধন্যবাদ
error: Content is protected !!