ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত সেই ছোটবেলা থেকে বইয়ের পাতায় অনেক পড়েছি । কিন্তু এখন আর সেই জ্ঞানটুকু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বইয়ের পাতা থেকে বেরিয়ে এসে সরোজমিনে স্বচক্ষে দেখার মত সুযোগ হয়েছে। বলছিলাম সেই বুড়িগঙ্গা নদীর কথা। যেখানে ঢাকার বেশ ব্যস্ততম নদী বন্দর টি অবস্থিত।

হ্যাঁ সদরঘাট ঢাকা শহরের একটি নদীবন্দর যাকে ঘিরে উনিশ শতকে একটি ব্যবসায়িক জনপদ গড়ে ওঠে। এর সন্নিহিত এলাকা পুরনো ঢাকা নামে প্রসিদ্ধ। এই সদরঘাট কে কেন্দ্র করে রয়েছে পুস্তক প্রকাশনার ঘাঁটি বাংলাবাজার এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য স্থান বা প্রতিষ্ঠান। যেমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বলধা গার্ডেন এবং আহসান মঞ্জিল এবং, সর্বোপরি, বিভিন্ন নদী পরিবাহিত পণ্য, বিশেষ করে মাছ ও ফলের সুবিশাল সব আড়ত। সারাদেশ, বিশেষ করে, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা শহরের নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকেন্দ্র এই সদরঘাট।

অনেক ব্যস্ততম এই সদরঘাটে শুধু যান্ত্রিকতায় নয়। সৃষ্টিকর্তা প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য এখানে ফুটিয়ে তুলেছে সেটিও চোখে পড়ার মতো। আর আমি সবসময় চেষ্টা করি প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আহরণ করার জন্য। সারা সপ্তাহ জুড়ে অফিস এবং বিভিন্ন কর্ম ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যখন অনেক বেশি মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। তখন আমি চেষ্টা করি ঢাকা অথবা ঢাকার বাইরে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ঘুরে আসতে।
এতে করে মানসিক চাপ থেকেও কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি স্রষ্টার সৃষ্টির যে সৌন্দর্য সেটাও উপলব্ধি করা যায়। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয় কর্মক্ষেত্রে আপনার কাজের অগ্রগতির জন্যেও এই ভ্রমণটা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যাইহোক এবার ফেরা যাক আসল কথায়…
অল্প টাকায় স্বল্প সময়ে বেশি বিনোদন। হ্যাঁ টাইটেলটা দেখে অবশ্যই মনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উৎপত্তি হয়। তবে কথা কিন্তু সত্য! চলুন জেনেনি সেটা কিভাবে সম্ভব?

আপনারা যারা ঢাকার মধ্য থেকে স্বল্প সময়ের জন্য একটু ঘুরাঘুরি অথবা নৌকা ভ্রমনের কথা ভাবছেন। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটি বলা। আপনি চাইলে খুব সহজে সদরঘাটে গিয়ে আপনার এই চাহিদাটুকু পূর্ণ করে আসতে পারেন খুব সহজে।
সদরঘাটে যেমন এক পাশে কর্মব্যস্ত মানুষের ছোটাছুটি। তেমন এই কর্ম ব্যস্ততার মধ্য দিয়েও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টির সৌন্দর্য এর স্বাদ গ্রহণ করার সুযোগ এবং সুবিধা সদরঘাটে রয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা যদি বলি। তাহলে সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দাঁড়ালেই আপনি বিকাল বেলায়, এক পাশে যেমন ব্যস্ততম মানুষদের ছুটাছুটি, অপর প্রান্তে সূর্যের বিদায় কালে আকাশের সৌন্দর্যের যে খেলা সেটি দেখতে পারবেন খুব সহজে।
হ্যাঁ আকাশের এই সৌন্দর্য হয়ত আপনি আপনার বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে দেখতে পারেন। কিন্তু নদীর পাড়ে দাড়িয়ে দেখার যেই অনুভূতি সেটা কিন্তু আপনি আপনার বাসার ছাদে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারবেন না। এটা গেল এক প্রকারের সৌন্দর্য উপভোগ করা অপর প্রান্তে আরও একটি বিষয় সেটি হলো নৌকা ভ্রমণ। ভ্রমণ এর মধ্যে যতগুলো আনন্দদায়ক ভ্রমণ আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো এই নৌকা ভ্রমণ।
আপনি যদি কোথাও নৌকা ভ্রমনে যেতে চান তার জন্য আপনাকে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা লাগে। বিশেষ করে নৌকা সংগ্রহ করা এবং কোথায় নদী আছে অথবা পানির প্রবাহ আছে সেখানে গিয়ে নৌকা ভ্রমন সম্পন্ন করা বেশ কষ্টসাধ্য। এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
কিন্তু আপনি খুব সহজেই সদরঘাটে গিয়ে এই স্বাদটুকু গ্রহণ করতে পারেন। সদরঘাটে যাওয়ার পরে দেখবেন, নৌকা ঘাটে অনেক নৌকা মাঝি সহ অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

মূলত তারা ব্যস্ততম মানুষ দের পারাপারের জন্য অথবা নদীর দুই প্রান্তের মানুষদের মধ্যে যোগাযোগ সূত্র স্থাপন করার জন্য বিশেষ মাধ্যম হিসেবে তারা কাজ করছে। পাশাপাশি মানুষের চাহিদা টুকুও তারা পূরণ করছে। ইচ্ছা করলে আপনি নদীর এপার থেকে ওপারে গিয়ে এবং ওপার থেকে এপারে এসে আপনার স্বল্পসময়ের নৌকা ভ্রমণ টুকু সেরে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খুবই কম সময় এবং খুবই কম অর্থ ব্যয় হবে।
আবার যদি মনে করেন না আমি পরিপূর্ণ নৌকা ভ্রমণের স্বাদ গ্রহণ করতে চাই। সে ক্ষেত্রে আপনি যে কোন একটা নৌকার সঙ্গে অর্থাত নৌকার মাঝির সঙ্গে কথা বলে ঘন্টা চুক্তিতে নৌকা ভাড়া করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার নৌকা ভাড়া করতে অনেক বেশি টাকা লাগবে সেটিও নয়।

আপনি এখানে ২০০ অথবা ৩০০ টাকার বিনিময়ে ঘন্টা চুক্তি হিসাবে নৌকা ভাড়া করতে পারেন। অর্থাৎ এই টাকার বিনিময়ে মাঝি আপনাকে নৌকায় করে নদীর মাঝে অথবা এপার ওপার ঘুরিয়ে দেখাবে। তবে নৌকা ভাড়া করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে নৌকার মাঝিদের সঙ্গে দামাদামি অর্থাৎ দরকষাকষি করে উঠতে হবে। সে ক্ষেত্রে আপনি দরকষাকষিতে যত বেশি পারদর্শী হবেন আপনার আর্থিক ব্যায় তত কমবে।

এই কাজটা আমি মাঝে মাঝে অর্থাৎ শুক্রবারে যখন ঢাকার বাইরে যেতে না পারি, অধিকাংশ সময় সদরঘাট গিয়ে নৌকায় এই ভ্রমণ টুকু সেরে আসি এতে সময় অনেক কম লাগে এবং আর্থিক ব্যয় টাও অনেক কম। যে কারণে আমি টাইটেলটা এভাবে রেখেছি। অল্প টাকায় স্বল্প সময়ে বেশি বিনোদন।

তবে আপনি যদি মনে করেন আপনার হাতে আরও সময় আছে। তাহলে এই সময়টুকু ব্যয় করার জন্য সদরঘাটের নিকটবর্তী আরো অনেক জায়গা আছে। যেখানে আপনি খুব সহজেই মনের মাধুরী মিশিয়ে ঘোরাঘুরি করে ভ্রমণের স্বাদ ভোগ করতে পারবেন।
যেমন খুবই সন্নিকটে রয়েছে আহসান মঞ্জিল এখান থেকেও আপনি ঘুরে আসতে পারেন।

যাই হোক এটাই ছিল আমার অল্প টাকায় স্বল্প সময়ে বেশি বিনোদন কথাটির মূল বিষয়বস্তু। জানিনা লেখাটি পড়ে আপনারা কতটুকু উপকৃত হবেন অথবা কতটা বিরক্তি বোধ করবেন। তবে যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আর এই সম্পর্কে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি ভিডিও ফুটেজ দেওয়া আছে সেটিও দেখে নিতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

একটি কথা না বললেই নয়। আপনারা যারা সদরঘাটে নৌকা ভ্রমনে যেতে ইচ্ছুক এবং নৌকা ভ্রমনে যাবেন। তাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ। যখন আপনারা নৌকায় চড়বেন নৌকার দুই পাশে অর্থাত নৌকার কোনাই হাত রাখবেন না। কেননা ব্যস্ততম এই নৌবন্দরে বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করে। সেই সাথে ছোট ছোট এই নৌকা গুলো অনেক দ্রুততার সঙ্গে চলাচল করতে থাকে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা সব সময় ঘটতে থাকে। নৌকায় নৌকায় যখন ধাক্কা লাগে যদি আপনার হাতটা ওখানে থেকে থাকে তাহলে আপনি আহত হতে পারেন।
আরেকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন সেটি হচ্ছে। আপনি যদি সাঁতার না জেনে থাকেন তাহলে এই জাতীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন ধন্যবাদ।

তো আজ এই পর্যন্তই। আশা করি ভালো থাকবেন এবং দোয়া করবেন। আমি পরবর্তী শুক্রবারে যেখানেই ভ্রমণে যায় না কেন সেখান থেকে ফিরে এসে আপনাদের উদ্দেশ্যে যেন আরও দুটি কথা লিখতে পারি। এবং সম্ভব হলে সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড দিতে পারি। এক্ষেত্রে আপনি এই সম্পর্কিত আপডেট জানতে চাইলে আমার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকতে পারেন। এবং সেইসাথে ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
তো আজ আর নয় আল্লাহ হাফেজ……

error: Content is protected !!